শিশু অধিকার দিবস ও বিশ্ব শিশু সপ্তাহ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাবার গড়া প্রতিষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে শিশু একাডেমিতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’ শীর্ষক আয়োজনের উদ্বোধন হবে সকাল সাড়ে ৯টায়। অনুষ্ঠানে শিশুদের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, থাকবে আলোচনা, নাচ, গান, আবৃত্তি ও নৃত্যানুষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী আসবেন তাই একাডেমিতে চলছে আলোকোজ্জ্বল সাজ। একাডেমির অঙ্গসজ্জাই শেষ কথা নয়, এই দৃশ্য ফটকের বাইরে প্রায় অর্ধকিলোমিটার জায়গা ছাড়িয়ে গেছে। এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে যখন ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে তখন ভেতরে অন্তঃসারশূন্য একাডেমির আলোচনাও সামনে আসছে। প্রায় আড়াই বছর ধরে চেয়ারম্যান পদ না থাকা, নিষ্ক্রিয় পরিচালনা বোর্ড, জাতীয় দুটি পুরস্কার বন্ধ, ঐতিহ্যবাহী শিশু পত্রিকা ‘শিশু’ ও প্রকাশনার বেহাল, জনবল সংকট, জিয়াউর রহমান হলে নামফলকযুক্ত না করা, দুরন্ত ভাস্কর্যসহ একাডেমির সংস্কারে হাত না দেওয়ায় শিশুদের প্রিয় প্রতিষ্ঠানটি ‘ঘোর অন্ধকারে’ পড়ে আছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য, একাডেমি এখন চলছে উদ্দেশ্যহীনভাবে; এই অবস্থার উত্তরণ জরুরি।
একাডেমি চত্বরে সোমবার বিকালে গিয়ে দেখা গেছে, পুরোদমে চলছে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি। মূল মিলনায়তনের সামনে প্যান্ডেল সাজানো হচ্ছে। প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে পথে যুক্ত করা হচ্ছে ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুনসহ নানা ধরনের শিশুতোষ ছবি। শোভা পাচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি। জিয়াউর রহমান মিলনায়তন যে ভবনটিতে করা আছে তার উপরিভাগে ছিল নামফলক। সেখান থেকে জিয়াউর রহমান থেকে ‘জিকার’ বাদ গেছে অনেক আগেই। এটি সংস্কার বা সংশোধনের প্রয়োজন মনে করেনি একাডেমি কর্তৃপক্ষ। এই অপ্রীতিকর দৃশ্য প্রধানমন্ত্রীর চোখে যেন না পড়ে সেজন্য ব্যানার ও বোর্ড দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। জিয়াউর রহমান মিলনায়তনের প্রবেশপথেও নেই নামফলক। এছাড়া একাডেমি চত্বরে ছিল দুরন্ত ভাস্কর্য, যা ৫ আগস্টের পর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেটি পুনর্নির্মাণ হয়নি। তাই ব্যানার-ফেস্টুনে এই জায়গাটিও ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
১৯৭৬ সালে জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমি। ১৯৮১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে মিলনায়তনটি করা হয়। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই নাম সরিয়ে ফেলা হয়। বর্তমান প্রশাসন তা আর যুক্ত করেনি।
২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আইন অনুমোদিত হয়। তবে এখনো অর্গানোগ্রাম তৈরি হয়নি বলে জানা গেছে। অসংগতির এখানেই শেষ নয়। দেশের ৬৪টি জেলা এবং ছয়টি উপজেলা শাখার মাধ্যমে শিশু অধিকার সনদ বাস্তবায়ন, শিশুদের সৃজনশীল ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ এবং প্রারম্ভিক বিকাশমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার যে উদ্যোগ রয়েছে তা এখনো বাস্তবায়ন করতে পারেনি। কারণ হিসাবে সংশ্লিষ্টরা জনবল সংকট ও বাজেট স্বল্পতাকে দায়ী করছেন। একাডেমিতে মহাপরিচালক পদ আছে কিন্তু পরিচালক পদ নেই। চেয়ারম্যান পদ আছে কিন্তু এই পদে কোনো নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না অনেকদিন ধরেই। নিষ্ক্রিয় আছে পরিচালনা বোর্ডও।