অল্প শব্দে গভীর অনুভূতি প্রকাশের ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘এক পলকের কাব্য’ সিজন টু অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৩০০ কবি অংশ নেন। তাঁদের পাঠানো কবিতার মধ্য থেকে সেরা ছয়টি কবিতা নির্বাচিত করে কবিদের সম্মাননা দেওয়া হয়। আয়োজকদের দাবি, বিনা নিবন্ধন ফিতে কবিতা জমা দেওয়ার সুযোগের পাশাপাশি আরও ৫০ জন বা তার বেশি কবিকে মেডেল দিয়ে সম্মানিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর জাগ্রত কনফারেন্স হলে জাগ্রত সাহিত্য পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এ সাহিত্য উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
দুই লাইনের কবিতার মাধ্যমে জীবনের গল্প, দর্শন ও আবেগ তুলে ধরার ধারণা থেকে ‘এক পলকের কাব্য’ কাব্যধারার প্রবর্তন করেন শিহাব রিফাত আলম। তাঁর মতে, কবিতার গভীরতা প্রকাশে দীর্ঘ পঙ্ক্তি অপরিহার্য নয়; বরং অনুভূতির গভীরতা ও শব্দের যথাযথ ব্যবহারই কবিতাকে অর্থবহ করে তোলে।
এই কাব্যধারার নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি লাইনে সর্বোচ্চ নয়টি শব্দ ব্যবহার করা যায়। সীমিত শব্দের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ অনুভূতি কিংবা জীবনবোধ প্রকাশ করাই এর মূল বৈশিষ্ট্য।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিজন টুতে জমা পড়া কবিতাগুলো চারজন বিচারকের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। এতে শ্রেষ্ঠ কবিতার স্বীকৃতি পেয়েছেন নুরুল হক খান মাস্টার, হাসিনা সুলতানা, রমেন্দ্র হালদার, হাফিজা শাহীন, ফৌজিয়া রুবি ও মো. দেলোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহেদ মুন্তাজ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক আলো, বাংলাদেশ পোয়েটস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, নাসরিন জেরিন, ছড়াকার আসলাম সানিসহ সাহিত্য ও সংস্কৃতির অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
আয়োজকদের ভাষ্য, ব্যস্ত জীবন ও ডিজিটাল যুগের পরিবর্তিত পাঠাভ্যাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কবিতাকে আরও সহজলভ্য করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। অল্প সময়ে পাঠকের মনে গভীর অনুভূতি জাগিয়ে তোলার পাশাপাশি নতুন ও প্রতিষ্ঠিত কবিদের সৃষ্টিশীলতা বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে চায় তারা।
সাহিত্যচর্চায় আর্থিক বাধা কমানো এবং নতুন লেখকদের উৎসাহিত করার অংশ হিসেবে বিনা নিবন্ধন ফিতে কবিতা জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্বাচিত কবিদের সম্মাননার পাশাপাশি অন্য অংশগ্রহণকারীদের মেডেল দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘এক পলকের কাব্য’ ভবিষ্যতে বাংলা সাহিত্যে সংক্ষিপ্ত কবিতার চর্চাকে আরও বিস্তৃত করবে। দুটি লাইনের মধ্য দিয়েও যে প্রেম, বিরহ, মানবিকতা, প্রকৃতি ও জীবনদর্শনের গভীর প্রকাশ সম্ভব, সেই ধারণাকে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।