একজন শিক্ষক সিগারেট হাতে নিয়ে কিংবা সিগারেট ফুকতে ফুকতে যখন শিক্ষার্থীদের উপদেশ দেন যে, ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সেই উপদেশ শিক্ষার্থীরা কখনো শোনে না ও শুনবে না। আমাদের ইংরেজি শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সব সময় বাংলায় বলেন যে, তোমরা ইংরেজিতে কথা বলা শিখবে তা না হলে ভালো চাকরি পাবে না, এটি বিদেশে যাওয়ার জন্যও খুব বেশি প্রয়োজন। এসব কোনো কথাই কাজে লাগে না কারণ একজন শিক্ষক যখন ইংরেজিতে কথা বলেন, সেটি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয় বড় মোটিভেশন, সেটিই শিক্ষার্থীদের জন্য বড় আনন্দ। তারা আনন্দে ইংরেজি শিখতে চাবে কারণ যখন দেখবে যে তাদের শিক্ষক সহজ ও বোধগম্য ভাষায় সুন্দরভাবে ইংরেজিতে কথা বলছেন, তখন তারাও ইংরেজিতে কথা বলতে উৎসাহিত হবে। অনেক শিক্ষক বলেন স্যার, ক্লাসে ইংরেজি বললে শিক্ষার্থীরা বোঝে না। দেখলাম তারা নিজেই বলতে পারছেন না, দ্বিতীয়ত, সেখানে তো আপনার দেখানোর প্রয়োজন নেই, শিক্ষার্থীরা কীভাবে বুঝে সেভাবে বলুন, সেটিও একটি গবেষণা , সেটিই আপনার বড় এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
ইংরেজিতে কথা বলার কোন অবস্থাতেই নেই শিক্ষার্থীরা! তাদের কাছ থেকে আমাদের আশা করাটা কতটা সঠিক হচ্ছে সেটি ভেবে দেখতে হবে। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নগুলো দেখলেই বুঝা যায় আমরা কতটা অবাস্তব আশা করছি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। এই পরিস্থিতিতে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ইংরেজিত কথা বলা ও শোনার প্র্যাকটিস করার কথা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর তথা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছে। উদ্যোগটি প্রশংসনীয় কিন্তু যে ভাবে বলা হচ্ছে সেটি কতটা কার্যকর সেটি নিয়েই আজকের এই লেখা। প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষার দিনই পরীক্ষার আগে বা পরে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।মৌখিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীর শোনা, বলা ও পড়ার দক্ষতা যাচাই করা হবে। শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হবে বলে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন/বাকপ্রতিবন্ধী শিশুর ক্ষেত্রে বিকল্প প্রকাশের মাধ্যমে মূল্যায়ন করার কথাও বলা হয়েছে।