নিজস্ব প্রতিবেদকঃ শিশু হত্যা ও ধর্ষণের মামলায় দ্রুত রায় হলেও ভুক্তভোগীর পরিবারের অপেক্ষা যেন শেষ হচ্ছে না। বিচারিক আদালতে দণ্ড ঘোষণার পরও উচ্চ আদালতের দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় আটকে থাকছে চূড়ান্ত শাস্তি ঢাকার পল্লবীর শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলায় মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতের রায়, মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় দ্রুত বিচার শেষে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। কিন্তু বিচারিক আদালতে দ্রুত রায় হলেও সেখানেই শেষ হচ্ছে না বিচারপ্রক্রিয়া। মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে ডেথ রেফারেন্স, আপিলসহ উচ্চ আদালতের একাধিক ধাপ পেরোতে হয়। ফলে দ্রুত বিচার ও রায়ের পরও চূড়ান্ত শাস্তি কার্যকরে দীর্ঘসূত্রতা থেকে যাচ্ছে। আইনজীবীদের মতে, বিচারিক আদালতে কোনো মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হলেও উচ্চ আদালতে মামলাজট, ডেথ রেফারেন্সের শুনানি এবং পরবর্তী আপিল প্রক্রিয়ার কারণে পুরো বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে শুধু আলোচিত মামলায় দ্রুত বিচার নয়, কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে সব মামলায় নির্ধারিত সময়ে বিচার শেষ করার সক্ষমতা তৈরি করা জরুরি।
১৯ দিনে রায়, বাস্তবায়ন হয়নি এখনো
রাজধানীর পল্লবীর আট বছরের শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দ্রুত বিচার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। গত ১৯ মে ২০২৬ রামিসাকে তাদের ভাড়া বাসায় হত্যা করা হয়। ২৪ মে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। একই দিন মামলাটি বিচারের জন্য শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন। এরপর বিচারকাজ দ্রুত শেষ করতে মাত্র পাঁচটি শুনানিতে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। গত ৭ জুন রায় ঘোষণা করেন আদালত। মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মামলাটিতে একদিনেই রাষ্ট্রপক্ষে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন রামিসার বাবা-মা ও বড় বোন, কয়েকজন প্রতিবেশী, চিকিৎসক, ঢাকা মহানগর হাকিম ও তদন্ত কর্মকর্তা। সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে দ্রুত রায়ের দিকে যায় মামলাটি। তবে বিচারিক আদালতের রায়ের পরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুযোগ তৈরি হয়নি।