মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগীর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ফ্যাক্টরির গোডাউনে ১৩টি ঘোড়া জবাই করে মাংস প্রক্রিয়াজাতের ঘটনায় নয়জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে একজনকে এক বছর এবং অপর আটজনকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুর ২টার দিকে ফুড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরির পরিত্যক্ত গোডাউনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক রিক্তা খাতুন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—মানিকগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব দাশড়া এলাকার লুৎফর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান; ঢাকার বাড্ডা এলাকার নিয়ামত মিয়ার ছেলে ইমন হাসান, আব্দুর রহমানের ছেলে তুহিন ও নেয়ামতুল্লাহর ছেলে মাসুদ; গাজীপুরের তেলিপাড়া এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে রুবেল ও দিঘিরচালা এলাকার কালো মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম খলিল; জামালপুরের তুলসীপুর এলাকার জিল হাফেজের ছেলে সোহেল রানা; টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী এলাকার আদম আলীর ছেলে হুমায়ুন কবির এবং ঢাকার বড় বেরাত এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে মারুফ।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই গোডাউনে অভিযান চালায় সদর থানা পুলিশ। এ সময় ঘোড়া জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতের অভিযোগে নয়জনকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে জবাই করা ১৩টি ঘোড়ার মাংস উদ্ধার করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক রিক্তা খাতুন জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়ে ঘোড়া জবাই করে ঢাকার বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় মাংস সরবরাহ করার কথা জানিয়েছেন। সিংগাইর উপজেলার হিরু নামের এক ব্যক্তি তাদের ভাড়া করে এ কাজ করাতেন বলেও তারা জানিয়েছেন।
সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনির হোসেন জানান, পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১-এর ৪ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে এ দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের এ অভিযানের মাধ্যমে অবৈধভাবে পশু জবাই ও অননুমোদিতভাবে মাংস প্রক্রিয়াজাতের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।